কুয়েতে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়া আমেনা খাতুন নামের এক বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। বুধবার কুয়েত পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দূতাবাসের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই নারীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে নারী গৃহকর্মী বা ‘খাদ্দামা’ পাঠানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত দুই দেশের সরকারের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হয়নি। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে কুয়েতে আসা নারী গৃহকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। ফলে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দূতাবাস কোনো নারী গৃহকর্মী ভিসা সত্যায়ন করছে না।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একটি অসাধু ও স্বার্থান্বেষী চক্র অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে দূতাবাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দালালের খপ্পরে পড়ে কুয়েতে আসার পর অনেক নারী গৃহকর্মীই বন্দিদশা ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। দূতাবাসের দেওয়া তথ্যমতে, গত তিন মাসে এ ধরনের অবৈধ প্রক্রিয়ায় কুয়েতে আসা সাতজন বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীকে বিশেষ ব্যবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে পাঠানো হয়েছে।
আরও
বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুয়েত দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার আগে কোনো বাংলাদেশি নারীকে গৃহকর্মী হিসেবে কুয়েতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানব পাচারকারী চক্রের প্রলোভন ও অপপ্রচার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি চক্রটি সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা অবিলম্বে দূতাবাস বা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।









