ইরান থেকে নিক্ষেপ করা বিস্ফোরকবাহী ড্রোনের আঘাতে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় বহুসংখ্যক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৌদ আবদুল আজিজ আল-ওতাইবি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আজ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া বিবৃতি থেকে জানা যায়, আজ বুধবার কুয়েতের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টা) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক নম্বর টার্মিনালে (টি-১) একাধিক ইরানি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে। সামরিক এসব ড্রোনের বিস্ফোরণে বিমানবন্দরের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। তবে বিবৃতিতে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন বা ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ও কাঠামোগত পরিমাণ কত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি আল-ওতাইবি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার পর থেকেই ওই বিমানবন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে আল-ওতাইবি আরও জানান, কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও হুমকি মোকাবিলা করতে সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য বা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে এই ড্রোন হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় শেষরাতের দিকে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে কুয়েতের সামরিক বাহিনী তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ব্যবহার করে সেই হামলা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। রাতের সেই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি বেসামরিক বিমানবন্দরে আঘাত হানল তেহরান।








