চলমান ইরান যুদ্ধের উত্তাপ আপাতদৃষ্টিতে ধ্বংসযজ্ঞের আভাস দিলেও ভূরাজনৈতিক হিসাবনিকাশে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এই যুদ্ধের প্রভাবে অভাবনীয়ভাবে কাছাকাছি এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল। সবাইকে চমকে দিয়ে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যৌথভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কিনতে দেশ দুটি একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা তহবিল গঠন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এই অভাবনীয় বন্ধুত্বের সূত্রপাত মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে। সে সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুকে ইরানের প্রায় তিন হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছিল। সেই চরম সংকটের মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে আসে ইসরায়েল। তারা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আমিরাতে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ও সেনা পাঠায়। সেই ভরসার সূত্র ধরেই যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক অঘোষিত সফরে চূড়ান্ত হয় এই গোপন অস্ত্রচুক্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির নেপথ্যের কারণটি বেশ পরিষ্কার। ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে বিশ্বসেরা সামরিক প্রযুক্তি থাকলেও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও মার্কিন সহায়তার অনিশ্চয়তা তাদের বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে আমিরাতের কাছে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল সার্বভৌম তহবিল থাকলেও তাদের অভাব ছিল উন্নত সামরিক প্রযুক্তির। ফলে এই নতুন চুক্তি দুই দেশের জন্যই একটি মোক্ষম সুযোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই তহবিল থেকে বিশেষ করে ড্রোনবিধ্বংসী ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
আরও
যুদ্ধ শেষে ইরান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে নিজেদের ভবিষ্যতের রক্ষাকবচ হিসেবে ইসরায়েলকেই চূড়ান্ত হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে আবুধাবি। অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজনীতির আরেক মেরুতে সৌদি আরব এখন পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে নতুন জোট গড়ছে। সব মিলিয়ে সমমনা এই দুই দেশের নতুন জোট এখন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক হিসাবনিকাশকেই বদলে দিচ্ছে।










