সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দীর্ঘ এক বছর ধরে নিখোঁজ থাকা পিরোজপুরের জিয়াউল হক নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির সন্ধান পাওয়া গেছে। পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সেখানকার একটি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ ও বাকশক্তিহীন অবস্থায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমানে ওই প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জানা গেছে, জিয়াউল হক পিরোজপুরের জিয়ানগর (বর্তমান নাম ইন্দুরকানী) উপজেলার চণ্ডিপুরের চরবলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। দুবাইয়ে কর্মরত অবস্থায় প্রায় দুই বছর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের কারণে গত এক বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটানো জিয়াউল হকের স্ত্রী ও সন্তান গত ১৯ মার্চ সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার আবেদন করেন। বিষয়টি জানার পরই তিনি নিজস্ব যোগাযোগের মাধ্যমে দুবাইয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। পরিবারের দেওয়া ছবি ও পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক হাসপাতালে নিবিড় অনুসন্ধানের পর অবশেষে একটি হাসপাতালে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে ওই দিন রাতেই মাসুদ সাঈদীর উদ্যোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে জিয়াউল হকের যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এ সময় সন্তানের ‘আব্বু, আব্বু’ ডাকে নির্বাক জিয়াউল কোনো উত্তর দিতে না পারলেও তাঁকে শুধু অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।
আরও
অসুস্থ জিয়াউল হককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ১৬ এপ্রিল দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রথম সচিব শাহানাজ পারভীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে স্ট্রেচার, নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তাসহ তাঁকে বিমানে দেশে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বাবদ প্রায় ৩০ হাজার দিরহাম (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়ারও সুপারিশ করেছে কনস্যুলেট।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আশা করি অল্প দিনের মধ্যেই তাঁকে দেশে আনা সম্ভব হবে। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, তাই তাঁদের যেকোনো সংকটে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।’ অন্যদিকে, জিয়াউলের স্ত্রী শামসুন্নাহার রুনা বলেন, ‘এমপি সাহেবের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর স্বামীর সন্ধান পেয়ে আমরা আনন্দিত ও তাঁর প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি না হলে আমার স্বামী বেঁচে আছেন না মারা গেছেন, তা-ই জানতে পারতাম না। এখন আমরা তাঁর দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি।’










