সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বিদ্রোহীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার তায়েফ ও ইয়ানবু শহর লক্ষ্য করে ছোড়া ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর কয়েক ঘণ্টা পরই হুতিদের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে এই পাল্টা হামলার দাবি করা হলো।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, তাঁদের এই হামলা ছিল মূলত একটি ‘আগাম প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ। সৌদির জিজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল এলাকায় অবস্থিত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, সামরিক অভিযান পরিচালনা কক্ষ এবং অস্ত্রের গুদামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল তাঁদের হামলার মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া আল-দাগারি ক্যাম্পের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল এবং জিজানের আরও কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতেও সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও
হুতিদের দাবি, এসব একযোগে চালানো হামলায় সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সুদানের কয়েক শ সামরিক সদস্য হতাহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে বেশ কয়েকটি অস্ত্রের গুদামও। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এসব হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির অভিযোগ, ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তে রিয়াদের বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের কারণেই নতুন করে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, জিজান থেকে ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ অঞ্চলের দিকে এরই মধ্যে দুই শর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল ছুড়েছে সৌদি বাহিনী। ইয়েমেনে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দেশটির ওপর থেকে সব ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সৌদির সামরিক অবস্থানগুলোতে এমন হামলা অব্যাহত রাখার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বৃহস্পতিবার হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে শনাক্ত করে মাঝপথেই ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই উসকানিমূলক হামলার কড়া জবাব দেওয়ার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরাকভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের খবরে বলা হয়েছে, হুতি-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলো ইয়েমেনের সাদা প্রদেশের কাতাবির ও মারান জেলায় সৌদি বাহিনীর অন্তত চারটি বিমান হামলার দাবি করেছে। এর মধ্যে একটি হামলায় স্থানীয় টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুতি-সমর্থিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাইজের মাকবানা জেলায় অপর এক হামলায় একটি পানির স্থাপনা ও একটি বেসামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাদার রাজিহ জেলায় একটি বসতবাড়ির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় এক কিশোরী তাঁর হাত হারিয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।







