উপসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের (এমজিআইএমও) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইরানের অংশগ্রহণ উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে উপসাগরীয় আরব দেশ ও ইরানকে নিয়ে একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। লাভরভ সেই পুরনো উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশগুলোর মধ্যকার ঐতিহাসিক ও জটিল সম্পর্কের কথা বিবেচনা করেই ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে পারস্পরিক আলোচনা ও আস্থা তৈরির মাধ্যমে একটি মতৈক্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়ায় আরব লিগ, ওআইসি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্ত থাকলে আলোচনা আরও ফলপ্রসূ হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। যদিও এর আগেই চীনের মধ্যস্থতা এবং রাশিয়ার উৎসাহে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল।
আরও
তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের উত্থাপিত ‘মক্কা চুক্তি’কে একটি ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষামূলক জোট’-এর মজবুত কাঠামো হিসেবে আখ্যায়িত করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তির উদ্যোক্তারা আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটের দরজা খোলা থাকবে। সম্ভাব্য দেশ হিসেবে মিশর ও আলজেরিয়ার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব দেশ এই জোটে যুক্ত হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, এই কাঠামোতে ইরান কীভাবে যুক্ত হতে পারে, সেই শর্তগুলো নিয়ে জোটের সদস্যরা একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে তা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মাইলফলক হবে বলে মনে করেন লাভরভ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই নতুন নিরাপত্তা কাঠামো ও প্রক্রিয়ায় রাশিয়া কোনোভাবেই নেতৃত্বের ভূমিকায় আসার চেষ্টা করবে না।







