মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নিখুঁত হামলায় সম্পূর্ণ ডুবে গেছে ইরানের বিশালাকৃতির তেলবাহী ট্যাংকার ‘এম/টি কায়লো’। রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে এই ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে মার্কিন হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিশালাকৃতির ওই ট্যাংকারটিকে ধীরে ধীরে সাগরের বুকে তলিয়ে যেতে দেখা যায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌরুটে এমন সরাসরি সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি তাদের যুদ্ধজাহাজে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়েছিল। মূলত সেই হামলার কড়া জবাব দিতেই শনিবার ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করে অভিযান চালায় মার্কিন নৌবাহিনী, যার মধ্যে কায়লো অন্যতম। সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, নিখুঁত এই হামলার মধ্য দিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি নৌবহরের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো এই ট্যাংকারটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরানের সঙ্গে তাদের যে ৪০ দিনের দীর্ঘ সংঘাত চলে আসছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী এই হামলা তারই একটি ধারাবাহিক অংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন আগ্রাসী পদক্ষেপের পরপরই তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দিয়েছে তেহরান। মার্কিন হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া ওই জলসীমায় প্রবেশ করা আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকেও তারা লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার মার্কিন বাহিনী যখন ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে একযোগে হামলা চালায়, তার পরপরই বিপ্লবী গার্ড নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিয়ে এই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
আরও
তবে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই নতুন পাল্টা আঘাতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে এখন এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি পেশিশক্তি প্রদর্শনের ফলে ওই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও চরম সংকটের মুখে পড়তে পারে।











