ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়েছে। এই তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গতকাল শুক্রবার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাইজ শহরের পশ্চিমে জাবাল হাবাশি জেলার আল-খাজান ও আল-মাকাহনা পাহাড় হুথিদের দখলমুক্ত করা হয়েছে। লোহিত সাগর উপকূলবর্তী তাইজের পশ্চিমাঞ্চল ও হোদেইদাহের দক্ষিণাঞ্চলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই ভারী সংঘর্ষ চলছে।
উপকূলীয় ফ্রন্টলাইন ধরে হুথিদের একটি বড় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মূলত এই লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও আল-জাজিরার তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার অভিযান শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষের শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সামরিক ও চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংঘাতে এখন পর্যন্ত পশ্চিম উপকূল ও তাইজে ৩৯ জন সরকারি সেনা এবং অন্তত ৪২ জন হুথি যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। সম্মুখ লড়াইয়ের পাশাপাশি উপকূলীয় শহর আল-মাখার (মোখা) একটি রেস্তোরাঁয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও হতাহত হয়েছেন।
এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুথিদের মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং আল-মাখা শহরের ওপর নজরদারি করার মতো পাহাড়ি এলাকাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে হুথিরা একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিসসহ পশ্চিম তাইজের বেশ কিছু এলাকা দখল করে নেয়। তবে তাদের এই অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেখানে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে সরকারি বাহিনী। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরব বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ যুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা পেতেই হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।










