সর্বশেষ

সৌদি যুবরাজকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন আমিরাতের শাসক!

119301565 mediaitem119301561ProbashircityWebPopupUpdate

আলোচিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড ফের আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের লাখ লাখ গোপন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। তাতে দেখা গেছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী দিনগুলোতে একাধিক বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন এই যৌন অপরাধী।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে পরে গভীর এক আন্তর্জাতিক সংকট তৈরি হয়। তবে বর্তমান ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের সখ্যতা থাকায় শেষ পর্যন্ত খুব একটা চাপ পড়তে হয়নি মোহাম্মদ বিন সালমানকে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইন ও আনাস আল রাশিদ নামের এক ব্যক্তির মধ্যে খাশোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত কথোপকথন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দিন দশেক পর এপস্টেইনকে পাঠানো এক বার্তায় আল রাশিদ হত্যাকাণ্ডটিকে ‘কুৎসিত… খুবই কুৎসিত’ বলে বর্ণনা করেন।

এর জবাবে এপস্টেইন লেখেন, ‘আমার কাছে এটা আরও বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমবিজেড (সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ) যদি তাকে ফাঁদে ফেলে থাকে, তাতে আমি অবাক হব না’।

এপস্টেইন যখন আরও বিস্তারিত জানতে চান, তখন আল রাশিদ লেখেন, ‘বলা কঠিন। খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তথ্য ফাঁস করা হয়েছে এবং… দ্রুত… খুব দ্রুত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা এখন একটি মিডিয়া যুদ্ধ। আমার মনে হয়, সৌদিরা যদি আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু না করে, তাহলে তারা ট্রাম্পকে হারাচ্ছে। আমার মতে, সবচেয়ে ভালো প্রতিরক্ষা হলো সত্য—যদি তা কুৎসিতও হয়।’

আরেকটি ইমেইলে এপস্টেইন লিখেছেন, একটি ‘সেকেন্দারি সূত্র’ তাকে জানিয়েছে যে অভিযানে অংশ নেয়া একজন ব্যক্তি ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। এরপর সেই ডিভাইসটি হ্যাক করে ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।

২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর আরেকটি কথোপকথনে আরও কিছু প্রশ্ন তোলেন এপস্টেইন। সেখানে তিনি খাশোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়া এবং একটি ‘ব্যর্থ গোপন অভিযান’ বা ‘ফাঁদ পাতার পরিকল্পনার’ কথাও উত্থাপন করেন। এ সময় তিনি বারবার মোহাম্মদ বিন জায়েদের নাম উল্লেখ করেন।

নথিপত্র অনুযায়ী সেই রাতেই এপস্টাইন এক পরিচিতজনের কাছ থেকে একটি বার্তা পান। সেখানে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ একটি ‘জরুরি’ বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছেন। পরদিন সকালেই তার রওনা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নথিতে এপস্টেইনের এই ‘পরিচিতজনের’ নামটি কালো করে দেয়া হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate