মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এবার কুয়েতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতায় সক্রিয় রয়েছে। এদিকে, ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া এই নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা রুখতে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের এই হামলাগুলোকে তারা ‘শত্রুতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং সেগুলো সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও কমান্ডারের আবাসস্থল লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।
تتصدى حالياً الدفاعات الجوية الكويتية لهجمات صاروخية وطائرات مسيرة معادية ، إثر العدوان الإيراني الاثم.
আরও
تنوه رئاسة الأركان العامة للجيش أن أصوات الانفجارات إن سمعت فهي نتيجة اعتراض منظومات الدفاع الجوي للهجمات المعادية.
يرجى من الجميع التقيد بتعليمات الأمن والسلامة الصادرة عن… pic.twitter.com/vMkIV1AKuF
— KUWAIT ARMY – الجيش الكويتي (@KuwaitArmyGHQ) September 3, 2026
এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবি দাবি করেছিল, কুয়েতে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলার পর সেখান থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে কুয়েতে এই হামলার বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সম্প্রতি ইরানের কৌশলগত লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে তেহরান। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও সৌদি আরবেও হামলা চালানো হয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে অভিযান শুরুর পর থেকে কুয়েতও তেহরানের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের দাবি, দেশটিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির কারণেই তারা এসব হামলা চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তেহরান আরও স্পষ্ট করেছে যে তাদের লক্ষ্য কুয়েতের সাধারণ মানুষ নয়, বরং দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে কুয়েতের মাটি থেকে অবিলম্বে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেরও জোর দাবি জানিয়েছে ইরান।











