মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে যখন চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই তেহরানে অবতরণ করেছে রাশিয়ার একটি বিশেষ সামরিক বিমান। সোমবার (১৩ জুলাই) তেহরানে বিমানটির এই আকস্মিক অবতরণ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও নানা জল্পনাকল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার স্পেশাল ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত ‘তুপোলেভ টিইউ-২১৪পিইউ’ মডেলের এই বিশেষ বিমানটি মস্কো থেকে রওনা হয়ে তেহরানে অবতরণ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অত্যাধুনিক এই বিমানটি ‘ডুমসডে প্লেন’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। মূলত যেকোনো জরুরি বা যুদ্ধাবস্থায় এটি একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং বিশেষায়িত ফ্লাইং কমিউনিকেশন সেন্টার বা ভাসমান যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে থাকে।
তেহরানে এই বিশেষ বিমানের সফরের কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো মস্কো বা তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তবে অতীতে রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদলকে নিয়মিতভাবে এই বিমানে করে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ১৬ জুন এই বিমানটি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে অবতরণ করেছিল। কাকতালীয়ভাবে ঠিক ওই দিনেই রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন উজবেক নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন।
আরও
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কয়েক দিন আগেও এই তুপোলেভ বিমানটিকে তেহরানে দেখা গিয়েছিল। সে সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিমানটি সেখানে অবস্থান করে। ধারণা করা হয়, ওই সময় রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই সিভিলেভ এই বিমানে করেই তেহরান সফরে গিয়েছিলেন। ঠিক তার কয়েক দিনের মাথাতেই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও তেহরান সফর করেন। তাই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিমানটির এই নতুন সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।










