আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ছাড়তে না পেরে বিপাকে পড়া হাজারো প্রবাসী ও বিদেশিদের জন্য বড় একটি স্বস্তির খবর এসেছে। ওভারস্টে বা অতিরিক্ত অবস্থানের জরিমানা ছাড়াই ভিসার মেয়াদ ও আবাসিক অবস্থার বৈধতা নিশ্চিত করতে অথবা নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগের সুযোগ দিয়ে ৩০ দিনের বিশেষ ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে যাঁরা নির্ধারিত সময়ে নিজ দেশে ফিরতে পারেননি, মূলত তাঁরাই এই মানবিক সুযোগের আওতায় উপকৃত হবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটির (আইসিপি) বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইসিপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ জুন থেকে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই নিজেদের ভিসা বা আবাসিক অবস্থার বৈধতা আইনিভাবে নিশ্চিত করতে পারবেন, অথবা চাইলে কোনো আইনি বাধা ছাড়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দেশ ত্যাগ করতে পারবেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট স্থগিত থাকায় বহু মানুষ আরব আমিরাত ছাড়তে পারেননি। আইসিপি জানিয়েছে, জরুরি ও ব্যতিক্রমী ওই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া ভ্রমণকারী এবং দর্শনার্থীদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক চাপ এড়াতেই মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে আগে ওভারস্টে জরিমানা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে পুরো অঞ্চলজুড়ে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হয়ে আসায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজের সুযোগ বজায় রাখতে কিংবা স্বাভাবিক নিয়মে নিজ দেশে ফিরে যেতে নতুন করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও
কর্তৃপক্ষ আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই বিশেষ সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আলাদা করে কোনো প্রাথমিক আবেদন বা বাড়তি দাপ্তরিক পদক্ষেপ নিতে হবে না। যাঁরা বৈধভাবে ইউএইতে থেকে যেতে চান, তাঁরা এই গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যেই আবাসন বা কর্মসংস্থানের অবস্থা নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। অন্যদিকে যাঁরা দেশ ছাড়তে চান, তাঁরা বিদ্যমান সাধারণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সরাসরি চলে যেতে পারবেন। এ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সর্বশেষ নির্দেশনা ও সঠিক তথ্যের জন্য সরকারি মাধ্যমগুলো অনুসরণ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে আইসিপি।









