পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে জিলহজের চাঁদের ছবি ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। আজ রোববার (১৭ মে) সকালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার জানায়, আবুধাবির খাতম জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে দিবালোকেই ১৪৪৭ হিজরির জিলহজ মাসের চাঁদের ছবি তোলা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ধারণ করা ওই ছবিতে চাঁদের বয়স ছিল প্রায় ৯ ঘণ্টা এবং সূর্য থেকে এর দূরত্ব ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি। সেই হিসাবে দেশটিতে আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
এই ঘোষণার পর ওই অঞ্চলজুড়ে চাঁদ দেখার কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে তিউনিসিয়া প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে কাল সোমবার (১৮ মে) থেকে দেশটিতে জিলহজ মাস শুরু হবে এবং সেখানেও ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে ২৭ মে। একইভাবে তুরস্ক জানিয়েছে, সোমবার থেকেই জিলহজ মাস শুরু হচ্ছে। দেশটি সরাসরি চাঁদ দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে ইসলামি ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করে থাকে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, তিউনিসিয়া ও তুরস্কে গতকাল শনিবার ছিল জিলকদ মাসের ২৯তম দিন। তবে সৌদি আরবসহ অধিকাংশ ইসলামি দেশে আজ রোববারকে জিলকদ মাসের ২৯তম দিন হিসেবে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যেই সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট দেশের মুসলমানদের জিলহজের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে। গত শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আদালত জানায়, রোববার সন্ধ্যায় কেউ খালি চোখে বা দূরবীনের সাহায্যে চাঁদ দেখতে পেলে নিকটস্থ আদালতে সাক্ষ্য নিবন্ধনের জন্য যোগাযোগ করতে হবে। সৌদি গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল (শনিবার) ছিল শাওয়ালের শেষ দিন এবং ১৯ এপ্রিল থেকে জিলকদ মাস শুরু হয়। আদালতের ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী রোববার জিলকদ মাসের ২৯তম দিন হলেও উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারে এটিকে ৩০তম দিন হিসেবে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামি ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ হিসেবে অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের আঞ্চলিক চাঁদ দেখা কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট। জিলহজ মাস শুরুর ওপরই বার্ষিক হজের সময়সূচি এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঈদুল আজহা উদ্যাপনের তারিখ নির্ভর করে।









