Opens in a new tab
সর্বশেষ

৭০০ কিমি দূর থেকে শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ, ৬ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা

Image 412148 cofdgafgpyWeb Popup (3)

ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউ’ থেকে আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের জেরে রাজধানী জাকার্তাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার আকাশ ঘন ছাইয়ে ঢেকে গেছে। বাতাসে ভাসমান আগ্নেয়গিরির ভস্মের কারণে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সুকর্ন-হাত্তা থেকে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে ৫৮টি আন্তর্জাতিক রুটসহ অন্তত ৩০১টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুকর্ন-হাত্তা ছাড়াও আরও পাঁচটিসহ দেশটির মোট ছয়টি বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ‘অঙ্কাসা পুরা’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এতে করে শত শত যাত্রী আটকা পড়ে বিমানবন্দরে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোও জাকার্তাগামী তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বান্দুংয়ের হুসেইন শাস্ত্রনেগারা এবং সুমাত্রার বান্দার লামপুংয়ের রাদেন ইন্তেন দ্বিতীয় বিমানবন্দরও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে যেকোনো উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণের প্রয়োজন হলে সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি শহরের বিমানবন্দরকে বিকল্প হিসেবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে আনাক ক্রাকাতাউয়ে এই নতুন অগ্ন্যুৎপাতের সূচনা হয়। এ সময় জ্বালামুখ থেকে তীব্র লাভাস্রোত নির্গমনের পাশাপাশি এক প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণ ঘটে, যার বিকট শব্দ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্টভাবে শোনা গেছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, আগ্নেয়গিরিটির জাভা অংশে অন্তত ৬ হাজার মিটার এবং সুমাত্রা ও বানতেন প্রদেশের আকাশে প্রায় ১৫ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ধোঁয়া ও ছাইয়ের বিশাল কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক আগ্নেয়গিরি ক্রাকাতোয়ার ধ্বংসাবশেষ থেকে জন্ম নেওয়া এই আনাক ক্রাকাতাউ বরাবরই অত্যন্ত সক্রিয়। ২০১৮ সালে এর ভয়াবহ এক অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে দেশটিতে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

এদিকে বাতাসে মিশে থাকা আগ্নেয়গিরির বিষাক্ত ভস্ম জাকার্তাসহ আশপাশের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শ্বাসকষ্টের আশঙ্কায় শহরের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া পরিবেশের এই বৈরী অবস্থা এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের সাগরে মাছ ধরার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup