ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি মাতৃসদন ও শিশু হাসপাতালের কাছে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এতে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং নবজাতকদের ইনকিউবেটর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই হামলার তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার দুপুরে আল-সাবিন ম্যাটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ডহুড নামের ওই হাসপাতালটি যখন নারী, শিশু, রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ ছিল, ঠিক তখনই এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আকস্মিক এই হামলায় গর্ভবতী নারী, অকালজাত নবজাতক, সাধারণ রোগী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতালের কর্মীরা বাধ্য হয়ে দ্রুত কিছু বিভাগ খালি করে ফেলেন।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, বিমান হামলার তীব্রতায় হাসপাতালের মূল ভবন, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিভাগ এবং আইসিইউ ও ইনকিউবেটরসহ বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর চিকিৎসা সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের এত কাছাকাছি এমন প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ। তারা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে।
আরও
উল্লেখ্য, রাজধানী সানা ও এর আশপাশের অঞ্চলের মানুষের জন্য আল-সাবিন হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সানার অন্যতম বৃহত্তম বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র, যা প্রতিদিন হাজার হাজার নারী ও শিশুকে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে চিকিৎসাব্যবস্থা এমনিতেই অত্যন্ত নাজুক, তার ওপর এমন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির পথকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলল।









