জন্মহার আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় নাগরিকদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির নতুন ‘এসজি চাইল্ড সাপোর্ট প্যাকেজ’-এর আওতায় যোগ্য নাগরিকেরা সন্তান জন্মের পর সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। গত রোববার (২৩ আগস্ট) ২০২৬ সালের ন্যাশনাল ডে র্যালিতে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং যুগান্তকারী এই ঘোষণা দেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই প্যাকেজের আওতায় সর্বোচ্চ ৬২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার এবং বিদ্যমান অন্যান্য সুবিধার অধীনে আরও প্রায় সাড়ে ৭ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার দেওয়া হবে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল পপুলেশন অ্যান্ড ট্যালেন্ট ডিভিশনের তথ্যমতে, আগের দুটি স্কিমকে একত্র করে নতুন এই আর্থিক প্যাকেজটি তৈরি করা হয়েছে। এর আওতায় আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল বা তার পরে জন্ম নেওয়া প্রতিটি যোগ্য শিশুর জন্য ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার নগদ উপহার হিসেবে দেওয়া হবে, যা জন্মের প্রথম ১২ মাসের মধ্যে দুই কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া শিশুর বয়স ১৬ বছর হওয়া পর্যন্ত প্রতিবছর ২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার করে ক্রেডিট দেওয়া হবে, যা ১৬ বছরে মোট ৩২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে দাঁড়াবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সুবিধার তুলনায় প্রথম সন্তানের ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত একটি পরিবার অতিরিক্ত ৪২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার সহায়তা পাবে এবং তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে এই আর্থিক সহায়তা আরও ১৯ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বৃদ্ধি পাবে।
নতুন এই প্যাকেজের আওতায় সিঙ্গাপুরের প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার পরিবার এবং ১৭ বছর বা তার কম বয়সী ৬ লাখ ১০ হাজারের বেশি শিশু সরাসরি উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত জন্মহার কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটির জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়ার কারণেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরই সিঙ্গাপুর ‘সুপার-এজড সোসাইটি’ বা অতি-বয়স্ক সমাজে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে, যার অর্থ দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিবাহ ও সন্তান নেওয়ার প্রবণতা বাড়াতে বিবাহ ও মাতৃত্ব-পিতৃত্বকালীন নীতি পর্যালোচনার জন্য একটি ওয়ার্কগ্রুপ গঠনের পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে প্রায় ৭০০ কোটি সিঙ্গাপুর ডলার বরাদ্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার।











