সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১২ জন প্রবাসী শ্রমিক। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে এখন শোকের ছায়া। স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১২ জনই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গন্ডগোহালী গ্রামের দুই আপন ভাই মোহন ও সুমন। মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে মোহনের পাঠানো একটি ভয়েস মেসেজ স্বজনদের হৃদয়কে আরও বেশি ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। মৃত্যুর আগে বোন আদরীর মুঠোফোনে ক্ষোভ ও আকুল কণ্ঠে মোহনকে বলতে শোনা যায়, “বাড়িতে কি সবাই পুরা মরিছে যে কেউ ফোন ধরছে না? এর পর আর ফোন দেসহীনি, কোন দিন ধরমু না।”
অভিমানমাখা এই কথাগুলোই যে ভাইয়ের জীবনের শেষ বার্তা হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি স্বজনেরা। মৃত্যুর সময় ভাইয়ের ফোন রিসিভ করতে না পারার চরম অপরাধবোধ ও শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বোন আদরী। এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই সহোদরকে হারিয়ে তিনি এখন পুরোপুরি দিশেহারা। বিলাপ করতে করতে তিনি জানান, বিদায়বেলায় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে না পারার এই আক্ষেপ তাঁকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
আরও
একসঙ্গে এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্বজনহারা পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। নিহত এসব রেমিট্যান্সযোদ্ধার মরদেহ দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং শোকাহত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।









