মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যের অন্যতম প্রধান শহর সেলাইয়া। সেখানে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে খেলনা বিক্রি করতে বসেছিলেন ৮১ বছর বয়সী বৃদ্ধ ডন হুয়ানিতো। কিন্তু স্থানীয় উৎসবের ব্যস্ত বাজারেও তাঁর খেলনা বিক্রি হচ্ছিল না। হতাশ হয়ে যখন তিনি দোকান গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে এক জাদুকরি ঘটনা। স্থানীয় এক সাংবাদিকের সরাসরি সম্প্রচার মুহূর্তের মধ্যেই বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট।
মেক্সিকোতে ‘দিয়া দে রেয়েস’ বা ‘তিন রাজা দিবস’ শিশুদের উপহার দেওয়ার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ঐতিহ্য। এই উৎসব উপলক্ষে গত ৫ জানুয়ারি রাতে সেলাইয়ার বুলেভার্দ আদলফো লোপেস মাতেওস এলাকায় খেলনা বিক্রির অস্থায়ী দোকান বসেছিল। সেখানেই ঋণ করে কেনা নতুন ও ব্যবহৃত খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন ডন হুয়ানিতো। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ মেটানোর তীব্র তাগিদ ছিল তাঁর চোখেমুখে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছিলেন না তিনি। চারপাশের দোকানে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও দিন শেষে তাঁর বিক্রি ছিল মাত্র এক হাজার মেক্সিকান পেসো।
পরদিন সকালে চরম হতাশায় যখন তিনি দোকান গোছাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় সাংবাদিক মার্কো মানসেরা। বৃদ্ধের অসহায়ত্ব দেখে তিনি কথা বলেন এবং জানতে পারেন তাঁর আর্থিক সংকট ও স্ত্রীর অসুস্থতার কথা। আবেগাপ্লুত ওই সাংবাদিক কালবিলম্ব না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করে মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। আর তাতেই ঘটে অভাবনীয় এক ঘটনা। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেলাইয়ার সাধারণ মানুষ হুয়ানিতোর দোকানের দিকে ছুটতে শুরু করেন।
আরও
সেখানকার দৃশ্যপট তখন পুরোপুরি অন্য রকম। একের পর এক মানুষ এসে খেলনা কিনতে শুরু করায় দ্রুত ফুরিয়ে যেতে থাকে দোকানের পণ্য। অনেকে খেলনার দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেন, আবার অনেকেই শুধু বুকে টেনে নিয়ে বৃদ্ধকে সাহস জোগান। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এই ভালোবাসায় শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রায় সব খেলনাই বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি দায়িত্বরত কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাও তাঁর সঙ্গে দেখা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। একটি ব্যর্থ বিক্রির দিন শেষ পর্যন্ত সেলাইয়ার মানুষের সম্মিলিত সহায়তায় এক অনন্য নজির তৈরি করে। ৮১ বছর বয়সী এক অসহায় বৃদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের এই সহমর্মিতা ও ভালোবাসার গল্পটিই এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।








