ফিলিস্তিনের গাজায় ‘গণহত্যা’ চলাকালে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলে অন্তত ২ হাজার ৫৯৬টি চালানে কয়েক লাখ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন একটি প্রতিবেদনের বরাতে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপনস অ্যান্ড অ্যামিউনিশন টু ইসরায়েল’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে পরবর্তী সময়গুলোতে এসব চালান ইসরায়েলে পাঠানো হয়।
অ্যামনেস্টির দেওয়া তথ্যমতে, এসব চালানের মধ্যে মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ইসরায়েলি সমরাস্ত্র প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসকে দেওয়া ১৫৫ মিলিমিটারের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কামানের গোলা, খান ইউনিসের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কাইস্ট্রাইকার ‘কামিকাজে’ ড্রোনের বিস্ফোরক ওয়ারহেড এবং সাঁজোয়া যানের যন্ত্রাংশ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ২৯৮টি সামরিক যানের উপাদান সরবরাহ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক কাস্টমস ক্লাসিফিকেশন সিস্টেমের নির্দিষ্ট কোডের ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত রক্ষণশীল পদ্ধতিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলে ভারতের প্রকৃত সামরিক সহায়তার পরিমাণ এর চেয়েও অনেক বেশি। এর আগে আল জাজিরার এক অনুসন্ধানেও দেখা গিয়েছিল, সামরিক পণ্য রপ্তানিতে ভারত ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ।
এই বিপুল অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে ভারতের নয়টি কোম্পানি ও সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েও কোনো জবাব পায়নি অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যেখানে গাজায় গণহত্যার স্পষ্ট ঝুঁকির কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে ভারত কোনোভাবেই না জানার ভান করতে পারে না। ইসরায়েলি বাহিনী যখন গাজায় মৃত্যু ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, তখন ভারতীয় কোম্পানিগুলো অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে মুনাফা লুটছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনে সহায়তার শামিল।
আরও
গত এক দশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারত বর্তমানে ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দেশে ‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থা তৈরির বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কূটনৈতিকভাবে ভারত সরকার আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার তোলা গণহত্যা মামলায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদও কড়া হাতে দমন করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর আগেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, ভারতের অস্ত্র রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে ‘জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি’ মেনে পরিচালিত হয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার হুমকিতে ইসরায়েল সব সময় ভারতের পাশেই দাঁড়িয়েছে।










