যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইউক্রেন। একদিকে হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে, অন্যদিকে কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে ইরান। পরস্পরবিরোধী এই বহুমুখী সংঘাতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
টানা ১৩ রাত বিমান হামলার পর গত শনিবার ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলা সাময়িক স্থগিত রাখার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের পর শনিবার ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে নিজেদের নিয়মিত পাল্টা হামলা বন্ধ রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, ওয়াশিংটন এখন সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের এক বিশেষ বৈঠকে মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মূলত অস্ত্রের ঘাটতি, সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা, উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করেই যুক্তরাষ্ট্র আপাতত হামলায় বিরতি টেনেছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে মার্কিন উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিললেও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা নতুন করে আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, তাঁরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু স্থাপনা লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছেন। সৌদি বাহিনী ইয়ানবুতে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করলেও জিজানের একটি শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া ওঠার খবর নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মানদেব নৌপথের নিরাপত্তাও নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। এর জবাবে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীও মারিব ও আল-জাওফ অঞ্চলে হুতিদের বিভিন্ন অবস্থানে জোরদার বিমান হামলা চালিয়েছে। উভয় পক্ষই নতুন করে সেনা মোতায়েন বাড়াতে থাকায় দেশটিতে আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরুর গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও
মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সমীকরণের মধ্যেই কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে নতুন ফ্রন্ট খুলেছে ইউক্রেন। শনিবারের এই হামলায় এক ইরানি নাবিক নিহত ও অপর একজন আহত হওয়ার ঘটনায় তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পাল্টা দাবি করেছেন যে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের স্যাটেলাইট নজরদারির তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে, যা তেহরানের সামরিক তৎপরতাকে সরাসরি সহায়তা করছে। এর ফলেই ইউক্রেনীয় বাহিনী ইরানের ওই জাহাজকে নিশানা বানিয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।









