মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনে নতুন করে হামলা চালানোর কারণ ব্যাখ্যা করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সাম্প্রতিক হামলায় ওই দুই দেশের স্পষ্ট দায় রয়েছে। মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া এবং অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। আজ বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করায় কুয়েত ও বাহরাইন সরাসরি এই হামলার দায় এড়াতে পারে না। একই সঙ্গে নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটি বলছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো হামলা হলে তার জবাব দিতে সব রকম উপায় ব্যবহার করা হবে এবং হামলার উৎসস্থলকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরের দিকে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। মাঝরাতে শোনা যাওয়া বিকট শব্দগুলো মূলত শত্রুপক্ষের অস্ত্র ধ্বংস করার আওয়াজ ছিল। দেশের অভ্যন্তরে কোনো স্থাপনায় হামলা সফল হয়নি বলে তারা নিশ্চিত করে। তবে কুয়েতের এই বিবৃতির কিছুক্ষণ পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় সেটিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটি দাবি করে, কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে তাদের অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে এবং এর সুস্পষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
আরও
কুয়েতের পাশাপাশি প্রায় একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে এ বিষয়ে বাহরাইনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় ইরানি দ্বীপ কেশমের আশপাশে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই মূলত কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে এসব জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি।










