হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে যেকোনো মূল্যে বিরত রাখা—আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দুই ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সমঝোতায় পৌঁছান বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই শীর্ষ বৈঠকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থান তুলে ধরেন শি জিনপিং। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই জলপথের যেকোনো ধরনের সামরিকীকরণের ঘোর বিরোধী চীন। একই সঙ্গে এই নৌপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের ওপর কোনো পক্ষের শুল্ক আরোপের চেষ্টারও কড়া সমালোচনা করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
জ্বালানি নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই নির্দিষ্ট রুটটির ওপর থেকে নিজেদের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে বেইজিং যে নতুন বিকল্পের কথা ভাবছে, তার ইঙ্গিত দেন শি জিনপিং। তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল আমদানি করতে আগ্রহী চীন।
আরও
অন্যদিকে, বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, সে বিষয়ে দুই পরাশক্তিই নিজেদের অভিন্ন অবস্থানের কথা পুর্নব্যক্ত করেছে। বেইজিং সফরে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মেনে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চীন তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাবে। দুই নেতার এই বৈঠক সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।








