ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে ড্রোন হামলায় মো. আ. রহিম (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত রহিম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামের মো. আজিজুল হকের ছেলে। গত সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। উন্নত ভবিষ্যতের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমানো এই যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসী তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে গত বছরের অক্টোবর মাসে জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন রহিম। পরিবারের সদস্যদের ধারণা ছিল, তিনি সেখানে কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। কিন্তু পরিবারের সম্পূর্ণ অজান্তেই চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এরপর গত ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় তিনি প্রাণ হারান। ওই একই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি এবং একজন নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রহিমের মৃত্যুর এই দুঃসংবাদটি সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারকে নিশ্চিত করেন তাঁরই বন্ধু লিমন দত্ত। লিমন নিজেও একই ক্যাম্পে রুশ সেনাসদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ওই ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে নিজের একটি পা হারিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছেলের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল বাবা আজিজুল হক আক্ষেপ করে বলেন, “রহিম যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা সে আমাদের জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে, আমার ছেলেকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না।”
আরও
পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের রহিমের এমন অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও গভীরভাবে শোকাহত। পুটিজানা ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম হিরা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারি কোনো সহযোগিতার সুযোগ থাকলে তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান নামে অপর এক বাংলাদেশি যুবক প্রাণ হারিয়েছিলেন। একের পর এক এমন ঘটনায় প্রবাসে পাড়ি জমানো তরুণদের বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।









