যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের সামরিক হামলা থেকে রক্ষা করতে ইরানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে আশ্রয় দিয়েছিল পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমন দাবি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলা থেকে বাঁচতে ইরান তাদের সামরিক বিমানগুলো পার্কিংয়ের জন্য গোপনে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে নিয়ে আসে। এই খবর প্রকাশের পর ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর সম্ভাব্য ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেতে ইরান তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক উড়োজাহাজ পাকিস্তানের এই ঘাঁটিতে সরিয়ে এনেছিল। বিস্ময়কর বিষয় হলো, পাকিস্তান যখন একদিকে ইরানকে তাদের সামরিক বিমান লুকিয়ে রাখার এই সুযোগ দিচ্ছিল, ঠিক একই সময়ে তারা সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছিল। এছাড়া, হামলার হাত থেকে বাঁচাতে আরেক প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও ইরান নিজেদের কিছু বেসামরিক বিমান সরিয়ে নিয়েছিল বলে জানা গেছে; তবে সেখানে কোনো সামরিক বিমান নেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া ইরানের এই বিমানগুলোর মধ্যে দেশটির বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আরসি-১৩০ নজরদারি বিমান এবং লকহিড কোম্পানির তৈরি সি-১৩০ পরিবহন বিমানও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিমান স্থানান্তরের সময়কাল নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার দাবি, গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরই মূলত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের এই সামরিক বিমানগুলো নূর খান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
আরও
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এই বিস্ফোরক দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে পুরো বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই দাবির সত্যতা নাকচ করে দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিটি একটি অত্যন্ত জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত। ফলে সেখানে যদি অন্য দেশের এতগুলো বিশাল সামরিক বিমান একসঙ্গে পার্ক করা থাকত, তবে তা খুব সহজেই সাধারণ মানুষ ও পর্যবেক্ষকদের নজরে আসত। তাই গোপনে সেখানে ভিনদেশি বিমান লুকিয়ে রাখার দাবিটি একেবারেই অবাস্তব ও অযৌক্তিক।








