ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখলেও, এবার ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সফলভাবে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার একটি পুরোনো গবেষণা রিঅ্যাক্টর থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি বা প্রায় ৩০ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘দৃঢ় নেতৃত্বের’ কারণেই কয়েক বছরের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বদলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এমন একটি জটিল অভিযান সফল করা সম্ভব হয়েছে। আইএইএ জানিয়েছে, এই ইউরেনিয়াম অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিরাপদে স্থল ও সমুদ্রপথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় স্থানান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার সাভানা রিভার সাইটে নেওয়া হয়েছে, যেখানে এটি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হবে। উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের কাছে অবস্থিত ‘আরভি-১’ গবেষণা রিঅ্যাক্টরে বহু বছর ধরে এই ইউরেনিয়াম সংরক্ষিত ছিল এবং ১৯৯১ সালে এর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরও সেখানে ২০ শতাংশের বেশি সমৃদ্ধ এই উপাদান মজুত ছিল।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে এই ইউরেনিয়াম সরানোর ঘটনার কূটনৈতিক তাৎপর্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার বিতর্কিত পদক্ষেপের পর কারাকাসের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়তে শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু পারমাণবিক নিরাপত্তাই জোরদার করেনি, বরং ‘নতুন ও পুনর্গঠিত ভেনেজুয়েলার’ বার্তাও বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে; পুনরায় চালু হয়েছে মার্কিন দূতাবাস এবং দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইটও চালু হয়েছে।
আরও
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের সমালোচনাও কম হচ্ছে না। ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থী নেতাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন এখন দেশটির বৃহত্তর গণতান্ত্রিক স্বার্থ বিবেচনা না করে নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাসিত বিরোধী নেতা ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে কার্যত পাশ কাটিয়ে কারাকাসের বর্তমান ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় এই সাফল্য এলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এখনো কোনো বড় অগ্রগতি আনতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রায় ৪০৮ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা; কিন্তু তেহরান এখনো সেই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসায় মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।









