সর্বশেষ

সিঙ্গাপুরে এজেন্ট সেজে ১৭ প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণা, বাংলাদেশি শ্রমিকের কারাদণ্ড

Ff8a5c4ca3bf9ed1a0fbdc963357a5b4155243916974a8e7Web Popup (3)

সিঙ্গাপুরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এমপ্লয়মেন্ট এজেন্ট পরিচয়ে ১৭ জন প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে প্রতারণা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের দায়ে মন্ডল পালুস (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিককে ১৩ মাস তিন সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের কাছ থেকে তিনি এই অর্থ হাতিয়ে নেন বলে আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিবরণীতে জানা যায়, অভিযুক্ত মন্ডল নিজেকে একটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং এই অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে তিনি মোট ৩৫ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৪ লাখ টাকা) হাতিয়ে নেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মন্ডল পালুসের এই সংঘবদ্ধ প্রতারণার ছক শুরু হয় ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে। তিনি তার পরিচিতদের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত বিভিন্ন প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং জোরালো দাবি করতেন যে, তিনি চাইলে তাদের আত্মীয়স্বজনদের খুব সহজেই সিঙ্গাপুরে চাকরি পাইয়ে দিতে পারবেন। চাকরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ‘ইন-প্রিন্সিপল অ্যাপ্রুভাল’ বা আইপিএ (IPA) প্রাথমিক অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার নাম করে তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা অগ্রিম নিতেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মন্ডল ছিলেন একজন সাধারণ নির্মাণ শ্রমিক এবং কারও জন্য আইপিএ আবেদন করার ন্যূনতম বৈধ অধিকার বা আইনি সক্ষমতা তার ছিল না।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রতারণার ফাঁদে প্রথম পা দেন হুমায়ুন, রাসেল ও হোসেন নামের তিন প্রবাসী ব্যক্তি। তারা সর্বমোট ৮ হাজার ৬০০ ডলার অভিযুক্ত মন্ডলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠান। কিন্তু টাকা দেওয়ার এক মাস পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো খবর না পেয়ে এবং মন্ডলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ২০২৩ সালের মে মাসে তারা বাধ্য হয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে আকতার নামে আরও একজন প্রবাসী একই পদ্ধতিতে ১ হাজার ৪০০ ডলার খুইয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশের বিশদ তদন্তে বেরিয়ে আসে, মন্ডল ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সংগৃহীত পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খরচ করেছেন এবং কারও জন্যই কোনো চাকরির আবেদন করেননি।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মন্ডলের বিরুদ্ধে প্রতারণার ৫টি মূল অভিযোগ এবং আরও ১০টি আনুষঙ্গিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। এই আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয় এবং তাকে স্পেশাল পাসের অধীনে সিঙ্গাপুরে রাখা হয়েছিল। অবশেষে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতের চূড়ান্ত শুনানিতে একজন দোভাষীর মাধ্যমে অভিযুক্ত মন্ডল নিজের সমস্ত অপরাধ স্বীকার করে নেন এবং সাজা শেষে দ্রুত নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানান।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup