ইসরায়েলকে কেউ হুমকি দিলে তাকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং তার জীবন সরাসরি ঝুঁকিতে পড়বে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাদের শত্রুদের উদ্দেশে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, কোনো সন্ত্রাসীর জন্যই আর কোনো দায়মুক্তি বা ছাড় নেই এবং যারা ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, তারা নিজেদের জীবনকেই বিপন্ন করবে।
নেতানিয়াহুর এই কঠোর হুঁশিয়ারিটি এমন এক সময়ে এল, যখন লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর এক আকস্মিক হামলায় হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান ইউনিটের শীর্ষ কমান্ডার আহমদ বালুত নিহত হয়েছেন। এই সফল গুপ্তহত্যার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত মন্তব্যটি করেন। হিজবুল্লাহ কমান্ডারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নেতানিয়াহু দম্ভভরে বলেন, “সে হয়তো সংবাদমাধ্যমে পড়েছিল যে বৈরুতে তার দায়মুক্তি আছে এবং সে নিরাপদ। কিন্তু এখন আর তা হবে না।”
হিজবুল্লাহর এই শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনেন। নেতানিয়াহুর দাবি, নিহত আহমদ বালুত দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী এবং সীমান্তবর্তী ইহুদি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। মূলত ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এসব পরিকল্পিত হামলা সমূলে নস্যাৎ করে দিতেই তাঁকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তিনি তার বক্তব্যে আভাস দেন।
আরও
লেবানন ফ্রন্টের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার চলমান পরিস্থিতি নিয়েও ওই ভিডিও বার্তায় কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওই অঞ্চলে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযান একেবারেই বন্ধ করেনি। বরং হামাসের সশস্ত্র সদস্যদের লক্ষ্য করে তাদের এই সামরিক অভিযান এখনো পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। তবে গাজায় চলমান এই সামরিক অভিযানের কারণে কোনো সাধারণ বা বেসামরিক নাগরিক হতাহত হচ্ছে না বলেও তিনি জোরালো দাবি করেন।










