কম্বোডিয়ার রাজধানী নম পেনে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত শুক্রবার (১ মে) নম পেনের মিয়ানচে জেলায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খেমার টাইমসের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গ্রেপ্তারের এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের এমন সাইবার অপরাধে জড়ানোর খবরে প্রবাসী কমিউনিটিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানচে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত একটি যৌথ টাস্কফোর্স দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্রতারণার একটি সুনির্দিষ্ট মামলার তদন্ত করছিল। এই তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্টুং মিয়ানচে-২ কমিউনের একটি সন্দেহভাজন বাসায় আকস্মিক অভিযান চালায়। এই সাঁড়াশি অভিযানে ওই গোপন আস্তানা থেকেই প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে এই ১২ বাংলাদেশিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযান চলাকালে ওই বাসা তল্লাশি করে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একাধিক ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। কম্বোডিয়ার পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত এই সন্দেহভাজন বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে সাধারণ মানুষকে ভুয়া ঋণের লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে জালিয়াতির ফাঁদে ফেলছিল। মূলত ঋণ অনুমোদনের কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অগ্রিম ‘প্রশাসনিক ফি’ বা প্রসেসিং ফি আদায় করার মাধ্যমেই তারা এই অভিনব প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
আরও
অনলাইন জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের মতো এমন গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে আটককৃত ১২ বাংলাদেশিকে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। জব্দকৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো থেকে প্রতারণার আরও তথ্য উদ্ধারে কাজ করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। কম্বোডিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।











