মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতা অবসানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে একটি সংশোধিত নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজ শুক্রবার (১ মে) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের হাতে এই নতুন প্রস্তাবটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের এই সংশোধিত প্রস্তাবে তেহরান ঠিক কী শর্ত বা রূপরেখা তুলে ধরেছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ইরানের এই নতুন প্রস্তাবের অপেক্ষাতেই ছিলেন। এর আগে গত সপ্তাহে তেহরানের দেওয়া পূর্ববর্তী একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আগের প্রস্তাবে প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ এবং পরবর্তীতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, সামরিক চাপ বা যুদ্ধাবস্থা চলমান থাকার মধ্যেই তেহরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সই করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের আকস্মিক যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যা টানা ৪০ দিন স্থায়ী ছিল। এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও ব্যাপক অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত ক্ষতির শিকার হয়। সংঘাতের প্রথমদিকে ইরান মূলত ওইসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা শুরু করে, তখন পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরানও আরব দেশগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়।
আরও
এমন ধ্বংসাত্মক হামলা ও পাল্টা হামলার মাঝেই গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা বর্তমানেও কার্যকর রয়েছে। তবে কূটনৈতিক এই তৎপরতার মধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মিত্র দেশ দুটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চলমান এই আলোচনা যদি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং কোনো ফলপ্রসূ চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে ইরানে নতুন করে আবারও সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানো হবে।











