হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমানের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। ওমানে এক সংক্ষিপ্ত সফর শেষে আরাগচি বলেন, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী দুই দেশ হওয়ায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। এই প্রণালির মধ্য দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে, তাই যেকোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ওমান সফর শেষে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) আরাগচি পাকিস্তানে ফিরে যান এবং সেখান থেকে পরবর্তীতে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের উদ্দেশে রওনা হন। সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আরাগচি জানিয়েছেন, পুতিনের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তাঁর এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক সফর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিরসনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইরানের প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, পারমাণবিক ইস্যুতে কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে, তা নিয়ে খোদ ইরানি নেতৃত্বের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত ও মজুত সরানোর যে দাবি করেছে, তাতে তেহরান একমত নয়। তাই দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে পারমাণবিক ইস্যু পাশ কাটিয়ে এগোনোর এই বিকল্প পরিকল্পনা উত্থাপন করেন আরাগচি।
আরও
পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া এই নতুন প্রস্তাবে প্রথমে হরমুজ প্রণালি সংকট এবং মার্কিন অবরোধের সমাধানে জোর দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে অথবা পক্ষগুলো স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানে সম্মত হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার পরই কেবল পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে প্রস্তাবটি পেয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই শর্ত মেনে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে আগ্রহী কি না, তা এখনো মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি।







