Long Popup (2)
সর্বশেষ

মহাসড়কে বাসচালক অজ্ঞান, যেভাবে প্রাণে বাঁচলেন শিক্ষার্থীরা

ResizeProbashircityWebPopupUpdate

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে চলন্ত অবস্থায় একটি স্কুলবাসের চালক হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে উপস্থিত বুদ্ধিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়েছে একদল শিক্ষার্থী। নিজেদের সাহসিকতায় তারা কেবল নিজেদেরই নয়, রক্ষা করেছে বাসচালকের প্রাণও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার মিসিসিপির কিলন এলাকায় এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে চরম বিপদের মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের এমন সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জন্য শুক্রবার স্কুলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

জানা যায়, হ্যানকক মিডল স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই চালক লিয়া টেইলর হঠাৎ অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বাসটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দুলতে শুরু করলে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত এগিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। এ সময় ষষ্ঠ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জ্যাকসন ক্যাসনাভে দ্রুত স্টিয়ারিং চেপে ধরে। জ্যাকসনের ভাষ্যমতে, “ভাবার সময় ছিল না, শুধু চেয়েছিলাম কেউ যেন আহত না হয়।” একই সময়ে ড্যারিয়াস ক্লার্ক নামের আরেক শিক্ষার্থী বাসের গতি কমাতে ব্রেক চাপার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে বাসটির গতি কমিয়ে সেটিকে সড়কের মাঝখানের বিভাজকে নিরাপদে থামাতে সক্ষম হয়।

বাসটি থামানোর পাশাপাশি চালকের প্রাণ বাঁচাতেও অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পদক্ষেপ নেয় শিক্ষার্থীরা। ড্যারিয়াসের ১৩ বছর বয়সী বোন কেলেইগ জরুরি সেবায় ফোন করে সাহায্য চায়। ১৫ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী ডেসটিনি কর্নেলিয়াস চালকের কাছে থাকা নেবুলাইজার ব্যবহার করে তাঁকে শ্বাস নিতে সহায়তা করার চেষ্টা করে। এ ছাড়া ১৩ বছর বয়সী ম্যাকেঞ্জি ফিঞ্চ চালকের মাথা ধরে রাখে এবং তাঁর ফোন ব্যবহার করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি দ্রুত অবহিত করে। কেলেইগ জানায়, “অনেকেই চিৎকার করছিল, ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু কিছু একটা করতেই হতো।”

খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালক লিয়া টেইলরকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেন এবং বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। ছোট এই শিক্ষার্থীদের এমন দায়িত্বশীল আচরণে মুগ্ধ সবাই। সুস্থ হয়ে ওঠা বাসচালক লিয়া টেইলর আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। আমার বাসের এই শিক্ষার্থীদের মতো আর কাউকে চাইতে পারতাম না। আমি তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আমার জীবন বাঁচিয়েছে।”

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুনProbashircityWebPopupUpdate