ইরান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট চরম অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জার্মানির শীর্ষ উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা লুফথানসা। ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে চলতি গ্রীষ্মকালীন সূচি থেকে প্রায় ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতির মাধ্যমে লুফথানসা জানিয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের এই কঠোর সিদ্ধান্ত আগামী অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বিস্তারিত জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, মূলত ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ থেকে পরিচালিত অলাভজনক স্বল্প দূরত্বের রুটগুলোতেই এই কাটছাঁট করা হচ্ছে। এর ফলে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের আগেভাগেই বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বর্তমান সূচি থেকে সাময়িকভাবে তিনটি গন্তব্য—পোল্যান্ডের বিদগশচ (Bydgoszcz) ও রেজশভ (Rzeszow) এবং নরওয়ের স্টাভেঙ্গারকে (Stavanger) পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই সমন্বয়ের প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা মে মাসের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
আরও
ব্যাপকসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হলেও লুফথানসা দাবি করেছে, সামগ্রিক আসন সক্ষমতার ওপর এর প্রভাব পড়বে এক শতাংশেরও কম। তবে এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এভিয়েশন বা জেট জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। ইউরোপীয় নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া নেটওয়ার্কের সামগ্রিক ভারসাম্য ধরে রাখতে জুরিখ, ভিয়েনা ও ব্রাসেলস হাবগুলোতে কিছু সেবা বাড়ানোর পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।
আগামী কয়েক মাসের জন্য সংশোধিত মধ্যমেয়াদি রুট পরিকল্পনা এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের শুরুতে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে জার্মান এই এভিয়েশন গ্রুপটি, যেখানে গ্রীষ্ম মৌসুমের স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট নিয়ে আরও কিছু রদবদল থাকতে পারে। এদিকে, আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য নিজেদের জেট জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে লুফথানসা। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয়ের এই বিশাল চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি সামাল দিতে সরাসরি জ্বালানি ক্রয় এবং ‘হেজিং’ (Hedging) বা মূল্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মতো কৌশলগত পদক্ষেপও ব্যবহার করছে তারা।









