লেবাননে সামরিক অভিযান চলাকালে যিশুখ্রিষ্টের একটি মূর্তির ওপর এক ইসরায়েলি সেনার হাতুড়ি দিয়ে হামলার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি এরই মধ্যে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও
মূর্তি ভাঙচুরের এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ফিলিস্তিনি সদস্যরা। নেসেট সদস্য আয়মান ওদেহ ঘটনাটিকে কটাক্ষ করে বলেন, পুলিশের মুখপাত্র হয়তো এখন দাবি করবেন যে ওই সেনা যিশুর কারণে নিজের জীবনের প্রতি হুমকি অনুভব করেছিল। আরেক সদস্য আহমদ তিবি তাঁর ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, যারা গাজায় নির্বিঘ্নে মসজিদ ও গির্জা ধ্বংস করে এবং জেরুজালেমে খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের ওপর থুতু নিক্ষেপ করেও পার পেয়ে যায়, তারা যিশুর মূর্তি ভাঙতে বা তা প্রকাশ্যে আনতে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না। সম্প্রতি ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিওর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, সম্ভবত এই বর্ণবাদীরা ট্রাম্পের কাছ থেকেই যিশু ও পোপকে অপমান করার শিক্ষা পেয়েছে।
আল–জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় চলমান আগ্রাসনের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী এর আগেও একাধিকবার মসজিদ ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, কেবল গত বছরেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা অন্তত ৪৫টি মসজিদে হামলা বা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে।
এদিকে রিলিজিয়াস ফ্রিডম ডাটা সেন্টারের (আরএফডিসি) অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খ্রিষ্টানদের ওপর অন্তত ২০১টি সহিংস ঘটনার তথ্য প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনার বেশির ভাগই ঘটিয়েছে কট্টরপন্থী অর্থডক্স ইহুদিরা। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহর এলাকায় ঘটা এসব ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ঘটনার মধ্যে থুতু নিক্ষেপ, মৌখিক হয়রানি, স্থাপনা ভাঙচুর ও শারীরিক হামলার মতো ঘটনা সবচেয়ে বেশি।








