সর্বশেষ

যুদ্ধবিরতির সুযোগে ভূগর্ভস্থে আটকা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক উদ্ধার করছে ইরান!

DTProbashir city Popup 19 03

টানা পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের এক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। ফলে একদিকে যখন আলোচনার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে তখন তেহরান ও ওয়াশিংটন পুনরায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যেই নিজেদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো নতুন করে সচল করার কাজ শুরু করে দিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব ঘাঁটির প্রবেশপথে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে তেহরান।

Added4e026b2acab9686624ca6c44b2b8c7350f3e992337f 1

উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি (স্যাটেলাইট ইমেজ) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ টানেলের মুখে আটকে থাকা ধ্বংসস্তূপ অপসারণে ইরান ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফ্রন্ট-এন্ড লোডার দিয়ে এসব ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তা পাশের ডাম্প ট্রাকে তোলা হচ্ছে। এর আগে সিএনএনেরই এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছিল যে, সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এসব ঘাঁটির প্রবেশপথে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, টানা ৪০ দিনের ওই সংঘাতের পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার অক্ষত ছিল, যেগুলোর অনেকগুলোই হয়তো হামলার কারণে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন-প্রোলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লায়ার মনে করেন, যুদ্ধবিরতির এই সময়ে এ ধরনের পুনরুদ্ধারকাজ মোটেও অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি মানেই হলো প্রতিপক্ষ তার সামরিক সক্ষমতার সেই অংশটুকু আবারও গড়ে তুলবে, যা ধ্বংস করতে অপর পক্ষ প্রচুর সময়, অর্থ ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে। তাঁর মতে, ঘাঁটিগুলো কার্যকর রাখার এই তৎপরতা ইরানের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনারই একটি অংশ। মূলত শত্রুর প্রথম আঘাত সহ্য করে টিকে থাকা এবং পরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বেরিয়ে এসে নতুন করে পাল্টা হামলা চালানোই হলো তাদের এই ‘মিসাইল সিটি’ বা ক্ষেপণাস্ত্র নগরের মূল কৌশল।

চলমান এই সংঘাতের স্থায়ী অবসানে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক দীর্ঘ বৈঠক হয়। তবে সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে। আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হলে, সেখানেও মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন জে ডি ভ্যান্স। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনারও ওই সম্ভাব্য বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি, তবে বেশ কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03