লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। হামলার কারণে বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাঁদের কর্মক্ষেত্র ও জীবিকার প্রধান উৎসগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একদিকে প্রাণহানির ঝুঁকি, অন্যদিকে তীব্র কাজ ও খাদ্যসংকটে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজারো প্রবাসী। সব মিলিয়ে এক বহুমুখী ও ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন তাঁরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের কৃষিপ্রধান সুর ও নাবাতি এলাকা এবং রাজধানী বৈরুতের উপশহর দাহিয়েতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকাগুলোতে বহু বাংলাদেশির বসবাস ছিল। প্রবাসীরা জানান, চোখের সামনেই তাঁরা মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখছেন। গত ৮ তারিখে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দীপালি বেগম নামের এক বাংলাদেশি নারী তাঁর নিয়োগকর্তার (কফিল) পরিবারের সঙ্গে নিহত হন। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পরিচিতজনদের কাছে ছুটছেন, কিন্তু কাজ বন্ধ থাকায় সেখানেও তীব্র সংকট বিরাজ করছে।
হামলা থেকে বাঁচতে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়া এই বাংলাদেশিদের অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে তাঁবু খাটিয়ে রাত পার করছেন। লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও, সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ভিন্নতার কারণে মানিয়ে নেওয়া বাংলাদেশিদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই অনেকে দলবদ্ধভাবে তাঁবুতে বসবাস করছেন। রেজাউল করিম নামের এক প্রবাসী জানান, প্রথম দিকে কিছুটা সামলে নেওয়া গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এখন তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। সব সময় চরম আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা, যা সেখানে এক চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে।
আরও
এ বিষয়ে রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ঝুঁকিতে থাকা প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও খাদ্যসংকট নিরসনে তাঁরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ও দূতালয়প্রধান আনোয়ার হোসাইন জানান, তাঁরা লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং বিপদের সংকেত পাওয়া মাত্রই কমিউনিটি ও অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখনই কারও সমস্যার খবর পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরেই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাতের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গত ৪০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই অব্যাহত হামলায় লেবাননের কোনো স্থানই এখন আর প্রবাসীদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়।




![]jhgfdsa](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/04/jhgfdsa.webp)





