সর্বশেষ

ট্রাম্প ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’: মার্কিন রাজনীতিবিদদের দাবি!

ImageProbashircityWebPopupUpdate

ইরানকে উদ্দেশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম আক্রমণাত্মক ও অকথ্য ভাষায় দেওয়া হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অনেক মার্কিন রাজনীতিক তাঁর ‘মানসিক সুস্থতা’ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অশ্লীল ভাষায় তিনি লেখেন, ‘প্রণালি খুলে দাও। নাহলে নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। শুধু দেখো কী হয়।’ একই সঙ্গে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের বড় ধরনের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, এমন কিছু ঘটবে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি। পোস্টের শেষে তিনি ব্যঙ্গ করে ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’ কথাটিও যুক্ত করেন।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন তাঁর একসময়ের কট্টর সমর্থক ও সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেলর গ্রিন। ট্রাম্পের আচরণকে ‘পাগলামি’ ও ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা নিজেদের খ্রিষ্টান বলে দাবি করেন, তাঁদের উচিত অবিলম্বে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই হস্তক্ষেপ করা। সাবেক এই কংগ্রেস সদস্য এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিনা উসকানিতে এবং পরমাণু অস্ত্র নিয়ে দশকের পর দশক মিথ্যাচার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। ট্রাম্পের এমন যুদ্ধংদেহী পদক্ষেপ তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরও সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘উন্মাদ পাগলের প্রলাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চাক শুমার। এক্সে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশবাসী যখন গির্জায় গিয়ে ইস্টার সানডের উৎসব পালন করছে, তখন প্রেসিডেন্ট উন্মাদের মতো চিৎকার করে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের হুমকি দিচ্ছেন। স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও ট্রাম্পের এই আচরণকে বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির প্রলাপ উল্লেখ করে যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্পের এই আচরণকে চরম পাগলামি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনায় বসতেন। মার্কিন সংবিধানের এই সংশোধনী কার্যকর করার অর্থ হলো, প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা রো খান্না এবং ডেমোক্রেটিক সিনেটর টিম কেইনও ট্রাম্পের এই ভাষাকে ‘লজ্জাকর ও শিশুসুলভ’ উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য সেখানে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate
ProbashircityWebBannerUpdate