ইস্টার উৎসবের বাড়তি চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মারাত্মক জ্বালানি সংকটে পড়েছে ইতালির প্রধান চারটি বিমানবন্দর। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার বিপি’। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি ঘাটতির কারণে ইতালির বোলোগনা, মিলান লিনাতে, ত্রেভিসো এবং ভেনিস—এই চার বিমানবন্দরে ইতিমধ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এয়ার বিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি বিবেচনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, রাষ্ট্রীয় বিশেষ ফ্লাইট এবং তিন ঘণ্টার বেশি দূরত্বের ফ্লাইটগুলোকে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে সাধারণ বাণিজ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানির বরাদ্দ সীমিত রাখা হবে।
ইতালীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সভাপতি পিয়েরলুইজি ডি পালমা জানান, মূলত ইস্টারের টানা ছুটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ও উড়োজাহাজ চলাচলের অস্বাভাবিক চাপের কারণেই সাময়িক এই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে এ–ও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এর ভয়াবহ পরিণতি সবাইকে ভোগ করতে হবে।
আরও
প্রসঙ্গগত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে ইরানও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। আর এতেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপের দেশগুলোতে।









