সর্বশেষ

ইরান যুদ্ধে আকাশপথে অস্থিরতা : বাড়বে কি টিকিটের দাম?

Image 140365City ads Investment (1)

বিশ্বজুড়ে আকাশপথের যাত্রীদের জন্য ২০২৬ সাল এক চরম অনিশ্চয়তার বছর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের উত্তাপ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশসীমায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনএনের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ায় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আর এর সরাসরি ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম ও হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিশ্বজুড়ে আকাশপথের যাত্রীরা এক ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি উড়োজাহাজের মোট খরচের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশই ব্যয় হয় জ্বালানি খাতে। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্কট কিরবি জানিয়েছেন, জ্বালানির এই দাম বাড়ার প্রভাব খুব দ্রুতই টিকিটের ভাড়ায় পড়বে। তেলের দাম যে হারে বাড়ছে, গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী টিকিটের দামও প্রায় একই অনুপাতে বাড়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব কেবল তেলের দামেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বিমান চলাচলসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াম’–এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তার অভাব ও লোকসানের আশঙ্কায় বিমান সংস্থাগুলো অনেক লাভজনক রুট বন্ধ করে দিচ্ছে। বাজারে ফ্লাইটের সংখ্যা বা সিটের জোগান কমে যাওয়ায় টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে, যার ফলে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে অনেক বেশি দামে টিকিট কাটতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্পিরিট এয়ারলাইনসের মতো বাজেট ক্যারিয়ারগুলো এই পরিস্থিতিতে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব সংস্থা বাজার থেকে সরে গেলে বড় বিমান সংস্থাগুলো একচেটিয়াভাবে নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ পাবে।

জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমান সংস্থাগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে কোয়ান্টাস, এসএএস ও এয়ার নিউজিল্যান্ড সরাসরি টিকিটের দাম বাড়িয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে বিমান সংস্থাগুলো জোট বেঁধে ভাড়া বাড়াতে না পারলেও পরিস্থিতির কারণে সবাই একই পথে হাঁটছে। খরচ কমাতে আমেরিকান এয়ারলাইনস কম জ্বালানিসাশ্রয়ী নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করছে এবং অনেক সংস্থা টেকসই বিমান জ্বালানি ব্যবহারের দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ভ্রমণের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকায় যাঁরা ওই সময়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের এখনই পরিবর্তনযোগ্য বা রিফান্ডযোগ্য (ফেরতযোগ্য) টিকিট কিনে রাখা উচিত। এতে পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আর্থিক লোকসান ছাড়াই টিকিট পরিবর্তনের সুবিধা পাওয়া যাবে।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Probashir city Popup
Probashir city Squre Popup