আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়, যা গত দুই মাসের মধ্যে দেশটির প্রথম এমন সামরিক পদক্ষেপ। ঠিক যেদিন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেন, সেদিনই এই উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং যখন বেইজিং সফরে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এই উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, সিউল ও বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতেই পিয়ংইয়ং এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছে।
একই সময়ে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং এই হামলাকে অন্য একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুর্বৃত্ত ও নৃশংস হস্তক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার উদ্যোগের বিরুদ্ধেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটি।
আরও
দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে চীনের অবস্থানের বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করাই উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা।
এই ঘটনার পর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের আকাশসীমা ও সামরিক নজরদারি আরও জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আশঙ্কা করছে, উত্তর কোরিয়ার এমন পদক্ষেপ পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।










