ইসরায়েলের একটি স্পর্শকাতর ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়, আর এতে নড়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্য। কেউ ঘটনাটিতে ক্ষুব্ধ, কেউ আতঙ্কিত, কেউ আবার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় সরব হয়েছেন। কিন্তু ভিডিওতে দেখা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি বন্দির প্রতি বর্বর আচরণের বিচার দাবি প্রায় অনুপস্থিত— সবাই বরং ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ভিডিও ফাঁসের নেপথ্যের ব্যক্তিকে নিয়ে।
জানা যায়, ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক আটক কেন্দ্রে ২০২৪ সালের ৫ জুলাই ওই ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ সামরিক আইনজীবী মেজর জেনারেল ইয়িফাত টোমের-ইয়েরুশালমি সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা মিলে এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করছে। ঘটনার পর বন্দিটি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়, তার অন্ত্র ছিঁড়ে যায়, ফুসফুস ও পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়।
কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা না হয়ে উল্টো সবাই মনোযোগ দিয়েছে টোমের-ইয়েরুশালমির দিকে— যিনি ভিডিওটি ফাঁস করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে বলেছেন “ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জনসংযোগ আক্রমণ।” তার সমর্থকরা টোমেরকে “দেশদ্রোহী” আখ্যা দিচ্ছে, আর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একে বলেছেন “অপবাদমূলক কাজ”।
আরও
ভিডিও ফাঁসের পর টোমের-ইয়েরুশালমি ১ নভেম্বর পদত্যাগ করেন এবং স্বীকার করেন যে তিনিই ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন। কিছু ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নিখোঁজ হন; পরে সন্দেহভাজন আত্মহত্যার নোটের সূত্র ধরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করেছে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে।
এদিকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের মূল অভিযোগ এখন আড়ালে চলে গেছে। অভিযুক্ত পাঁচ সেনা নিজেদের মুখ ঢেকে আদালতে হাজির হয় এবং নিজেদের “দেশপ্রেমিক সৈনিক” দাবি করে নির্দোষ বলে দাবি তোলে। তারা ঘটনাটিকে “রাষ্ট্র রক্ষার প্রয়াস” হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
ইসরায়েলি সাংবাদিক অরলি নয় এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “এখন কেউ ধর্ষণের কথা বলছে না। সবার আগ্রহ এখন কে ভিডিওটি ফাঁস করেছে, কেন করেছে, আর তাতে কোনো ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্র আছে কি না।” রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই ও নেতানিয়াহু সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট— সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন নতুন এক বিতর্কের দিকে মোড় নিয়েছে, অথচ বিচার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি পড়ে আছে একেবারে পেছনে।






![]](https://probashtime.net/wp-content/uploads/2026/05/unnamed-file.webp)


