সুদানের রাজধানী খার্তুম ও উত্তর দারফুরের এল-ফাশের এখন মৃত্যুপুরী। কয়েক মাস আগেও যে নগরী ছিল প্রাণচঞ্চল, আজ সেখানে কেবল ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও লাশের স্তূপ। গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতায় শহরজুড়ে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে—রাস্তায় পড়ে থাকা শত শত লাশ দাফনেরও কেউ নেই। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জাতিসংঘ একে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকট বলে আখ্যায়িত করেছে।
সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তবে এই সংঘাতের পেছনে শুধু সুদানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনই নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নামও বারবার উঠে আসছে। কারণ, দেশটির ওপর অভিযোগ রয়েছে সুদানের আধাসামরিক বাহিনীকে সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করার।
গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ২০২১ সালের অক্টোবরের সামরিক অভ্যুত্থান থেকে। সে সময় ক্ষমতা দখল করেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও তার ডেপুটি, আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)–এর প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়—আরএসএফকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা এবং নতুন বাহিনীর নেতৃত্ব কে নেবে, তা নিয়ে। মূলত ক্ষমতা, সম্পদ ও প্রভাবের দখল নিয়ে এই দ্বন্দ্ব রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
আরও
আরএসএফ বাহিনীর উৎপত্তি ২০১৩ সালে, দারফুরে সংঘটিত গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের দায়ে অভিযুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্য থেকেই। দাগালো এই বাহিনীকে শক্তিশালী করে তোলেন এবং অভিযোগ রয়েছে, তিনি সুদানের সোনার খনি থেকে উত্তোলিত সোনা পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠাতেন। সুদানি সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, ইউএই আরএসএফকে অস্ত্র ও ড্রোন সহায়তা দিচ্ছে—যদিও আমিরাত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বর্তমানে আরএসএফ প্রায় পুরো দারফুর অঞ্চল ও কর্দোফান প্রদেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তারা সেখানে একটি বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করছে, যা সুদানের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।












