সর্বশেষ

গাজায় নিশ্চিহ্ন মসজিদ, ধ্বংসস্তূপ থেকেই ভেসে আসছে আজান

A destroyed mosque in gaza, the call to prayer echoes from the rubbleProbashir city Popup 19 03

ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় গাজার প্রায় সব মসজিদই আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একসময় নামাজ ও আজানের ধ্বনিতে মুখর থাকা পবিত্র স্থাপনাগুলো এখন ভাঙাচোরা ইট-পাথরের স্তূপে পরিণত। ঐতিহাসিক মিনার, প্রাচীন স্থাপত্য ও শতাব্দীপ্রাচীন উপাসনালয়গুলো যেন বোমার নিচে হারিয়ে গেছে। তবুও ধ্বংসস্তূপের মাঝেই থেমে নেই ফিলিস্তিনিদের নামাজ—ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের ভগ্নাংশেই প্রতিদিন আজান দিচ্ছেন মুয়াজ্জিনরা, সেজদায় ঝুঁকছেন বিশ্বাসীরা।

ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্যানুসারে, টানা দুই বছরের সংঘাতে গাজা উপত্যকা এখন প্রায় মিনারবিহীন। একসময় যেখানে প্রতিদিন প্রতিধ্বনিত হতো নামাজের আহ্বান, আজ সেখানে কেবল ধূলা আর ধ্বংসাবশেষ। প্রাচীন স্থাপত্যের কোনো চিহ্ন আর অবশিষ্ট নেই, যেন ইতিহাসই মুছে যাচ্ছে আগ্রাসনের নিচে।

গাজার শুজাইয়্যা এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী আবু খালেদ আল-নাজ্জার বলেন, “আমি আমার বাবার কণ্ঠ চিনার আগেই মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ চিনতাম। পঞ্চাশ বছর ধরে এই মসজিদে নামাজ পড়েছি। আজ সেই মসজিদের দরজার পাশের গালিচাটাও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা।”

গাজার সরকারি তথ্য অফিসের হিসাব অনুযায়ী, উপত্যকার মোট ১,২৪৪টি মসজিদের মধ্যে ৮৩৫টি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ১৮০টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মামলুক ও অটোমান আমলের বহু ঐতিহাসিক মসজিদও রয়েছে, যেগুলো একসময় গাজার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল।

পুরনো শহরের ঐতিহাসিক গ্রেট ওমারি মসজিদের ধ্বংসাবশেষে দাঁড়িয়ে ২৭ বছর বয়সী মাহমুদ কান্দিল বলেন, “এই মসজিদ ছিল গাজার প্রাণ। এখন শুধু ধূলা আর শূন্যতা। তারা শুধু ভবন নয়, আমাদের স্মৃতি মুছে ফেলতে চায়।” অন্যদিকে, আল-দারাজপাড়ার আল-সাইয়্যিদ হাশিম মসজিদের সামনে বসে ৭৪ বছর বয়সী উম্মে ওয়ায়েল বলেন, “আমি অসুস্থ থাকলেও প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে সূরা আল-কাহফ পড়তাম। এখন মসজিদ নেই, কিন্তু ঘরে বসেই কুরআন পড়ব—আল্লাহ আমাদের কথা শুনবেন, যেখানেই থাকি।”

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03