ঘানার প্রেসিডেন্ট দেশটির প্রধান বিচারপতিকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। অভিযোগ ওঠে, তিনি পদের অপব্যবহার করেছেন। সোমবার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তদন্ত কমিশন তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগকে প্রমাণিত বলে মত দিয়েছে এবং পদ থেকে অপসারণের সুপারিশ করেছে। তবে প্রধান বিচারপতি টরকোর্নো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনজনের আবেদনের ভিত্তিতে টরকোর্নোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে প্রেসিডেন্ট একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সে সময় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর প্যানেলটি আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আনা প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার নথি ও সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে। এ সময় ১৩ জন সাক্ষী, প্রধান বিচারপতি নিজে এবং আরও ১২ জন বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য দেন। তবে অন্যান্য দুটি আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
টরকোর্নো ছিলেন ঘানার তৃতীয় নারী প্রধান বিচারপতি এবং এ পদে থেকে তদন্ত ও অপসারণের মুখোমুখি হওয়া প্রথম ব্যক্তি। ২০২৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো তাকে এ পদে মনোনীত করেছিলেন। ঘানার আইনে প্রধান বিচারপতিরা নিরাপদ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন, এবং শুধু গুরুতর অসদাচরণ বা অযোগ্যতার প্রমাণ মিললেই তাদের অপসারণ করা যায়।
আরও
এপ্রিলে বিরোধী নিউ প্যাট্রিয়টিক পার্টি বরখাস্তের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়। টরকোর্নো আগেও অপসারণের আবেদনের মুখে পড়েছিলেন, তবে তখনকার প্রেসিডেন্ট আকুফো-আড্ডো আবেদনটি খারিজ করেছিলেন।
এদিকে সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যালফ্রেড তুয়া-ইয়েবোয়া মন্তব্য করেছেন, এই অপসারণ একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। তার মতে, অভিযোগগুলো যথেষ্ট নয় এবং যদি এ ধরনের দুর্বল কারণে অপসারণ করা হয়, তবে ঘানার বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে।













