বাংলাদেশের জন্য আইএমএফ চুক্তি অনুযায়ী চতুর্থ কিস্তির ৬৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭,৭৪০ কোটি টাকার ঋণ ছাড় করছে। পাশাপাশি, নতুনভাবে আরও ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ঋণ সহায়তার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) আইএমএফের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
আইএমএফ জানায়, চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৮ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশে উন্নীত হবে এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে। এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ ছাড় করা হয়েছে।
আরও
চতুর্থ কিস্তি অনুমোদনের আগে ৩ থেকে ১৮ ডিসেম্বর আইএমএফের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে। সফরকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স ও ঋণের কাঠামোগত সংস্কার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই আইএমএফ বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
৪.৭ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি সরকার আরও ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছিল। এর মধ্যে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এই অর্থ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বর্ধিত ক্রেডিট সুবিধা ও বর্ধিত তহবিল সুবিধার আওতায় দেওয়া হবে।
আইএমএফ প্রতিনিধি দলের প্রধান জানান, ইসিএফ, ইএফএফ এবং আরএসএফ কাঠামোর অধীনে তৃতীয় পর্যায়ের পর্যালোচনা শেষে কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে।
সরকার মুদ্রানীতি কঠোর করার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার সংস্কার এবং রাজস্ব বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতামূলক আর্থিক খাত প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সবুজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
আইএমএফের এই ঋণ সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









