স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মালয়েশিয়া সরকার। বর্তমানে দেশটিতে ন্যূনতম মজুরি এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত (প্রায় ৫০ হাজার টাকা), যা বাড়িয়ে দুই হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকরাও এই ন্যূনতম মজুরির আওতাভুক্ত। তাই এই মজুরি বৃদ্ধি পেলে দেশটিতে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীও সরাসরি এর সুফল পাবেন।
শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক টিকে থাকার বিষয়টিও সরকার সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যেসব কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন রিঙ্গিত মুনাফা করছে, তাদের শ্রমিকদের মাত্র এক হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বেতন পাওয়াটা কোনোভাবেই টেকসই নয়। উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়লে শ্রমিকদেরও তার ন্যায্য হিস্যা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মজুরি কাঠামোর জন্য শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।
সরকার মজুরি দুই হাজার রিঙ্গিত করার পরিকল্পনা করলেও মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) ন্যূনতম মজুরি তিন হাজার ১০০ রিঙ্গিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এই অঙ্কের বেতনকে ‘লিভিং ওয়েজ’ হিসেবে গ্রহণ করলেও, এটি সর্বস্তরে বাস্তবায়ন হলে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকেরা সংসার চালিয়ে সঞ্চয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। মজুরি বাড়লে তাঁদের এই অর্থনৈতিক সংকট অনেকটাই লাঘব হবে। এর পাশাপাশি আগামী ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বিদেশি শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়কেই ভবিষ্যৎ তহবিলে (ইপিএফ) ২ শতাংশ হারে চাঁদা দেওয়ার নতুন নিয়মও কার্যকর হতে যাচ্ছে দেশটিতে।









