মালয়েশিয়ার পেনাং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি শৌচাগারের স্যানিটেশন বিন থেকে জীবিত অবস্থায় এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিমানবন্দরের প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগার পরিষ্কার করার সময় এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে সদ্য ভূমিষ্ঠ ওই নবজাতককে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে নাড়ি যুক্ত ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে জন্মের পরপরই তাকে সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল।
এই অমানবিক ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও জোর তদন্ত চালিয়ে বুকিত জাম্বুল কমপ্লেক্স এলাকা থেকে ২৩ বছর বয়সী এক মালয়েশীয় নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশ প্রধান আনুওয়াল আব ওয়াহাব জানান, তদন্তের সূত্র ধরে পরবর্তীতে ২২ বছর বয়সী এক মিয়ানমারের নাগরিককেও আটক করা হয়েছে, যিনি ওই বিমানবন্দরেই নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুকে অভিভাবক কর্তৃক পরিত্যক্ত করার আইনের আওতায় পুরো ঘটনাটির নিবিড় তদন্ত চলছে। এদিকে, স্যানিটেশন বিনের ভেতর থেকে নবজাতক উদ্ধারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরের ট্যাম্পিনেস এমআরটি স্টেশনের শৌচাগার থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের সেই হৃদয়বিদারক স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।











