থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের অমানবিক নির্যাতনের শিকার দুই বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়ার পেনাং প্রদেশ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় বন্দিশিবিরে আটকে রেখে মুক্তিপণের দাবিতে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের পর গত ২৮ আগস্ট তাঁদের একটি ক্লিনিকের সামনে ফেলে যায় পাচারকারীরা। উদ্ধার হওয়া এই দুই যুবক হলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জনি এবং চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের মো. মোশাররফ হোসেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের হস্তক্ষেপে আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই তাঁদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
পাচারের শিকার জনির পরিবার সূত্রে জানা যায়, পেশায় অটোরিকশাচালক জনি কাজের সন্ধানে গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় এলে এক দালালের খপ্পরে পড়েন। ভালো চাকরির প্রলোভনে তাঁকে কক্সবাজারের টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক নৌকায় তোলা হয়। উত্তাল সাগরে ১০ দিনের বিপজ্জনক যাত্রা শেষে থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর তাঁকে টানা চার মাস বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলে তাঁর হাত-পায়ে পচন ধরে যায়। নির্যাতনের ভিডিও বাড়িতে পাঠিয়ে জনির দিনমজুর বাবা মো. ফুরকানের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে দালাল চক্র। টাকা দিতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে তাঁদের অবৈধপথে মালয়েশিয়ায় নিয়ে আরও দুই মাস আটকে রাখা হয়। একই চক্রের মাধ্যমে পাচার ও চরম নির্যাতনের শিকার হন মীরসরাইয়ের মোশাররফ হোসেনও।
বন্দিশিবিরে থাকা অন্যরা মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ছাড়া পেলেও, জনি ও মোশাররফের পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় পাচারকারীরা তাঁদের পেনাংয়ের একটি রিফিউজি ক্লিনিকের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে জানালে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর নির্দেশে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে দূতাবাসের অনুমোদনক্রমে স্থানীয় এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর তত্ত্বাবধানে তাঁদের চিকিৎসা ও দেখভাল চলছে।
আরও
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে। থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ার দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত ও জলপথ ব্যবহার করে দালালরা নিয়মিত সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করছে। সচেতনতার অভাবে গ্রামীণ জনপদের মানুষজন ভিটেমাটি বিক্রি করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এমন মরণফাঁদে পা দিচ্ছেন। এই সংকট নিরসনে সীমান্তে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি প্রভাবশালী পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










