মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এবার উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। সেলাঙ্গরের ক্লাং এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রবাসীর কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি একটি পানের দোকান থেকে মেথামফেটামিন বা ‘শাবু’ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র নেশার অনুভূতি তৈরি করতে পানের সঙ্গে শাবু মিশিয়ে সেবনের একটি গোপন চক্র সেখানে সক্রিয় ছিল। এ ছাড়া একই অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অনেককে আটক করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে ক্লাং জেলার হেনতিয়ান ক্লাং এলাকায় শুরু হওয়া আকস্মিক এই অভিযানে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি শ্রমিকদের আবাসনে তল্লাশি চালানো হয়। এসব স্থান দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি শ্রমিক ও প্রবাসীদের বসবাস এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অভিযান চলাকালে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তিদের পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করেন। এ সময় ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় অবস্থান, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসসহ অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধ যাচাই করা হয়।
আরও
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের বিষয়ে অভিযানে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা কর্মসংস্থানের সঙ্গে কোনো নিয়োগকর্তা বা তৃতীয় পক্ষ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। কয়েকটি আবাসিক ইউনিটে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রির আলামতও পাওয়া গেছে। প্রায় আড়াই শ কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে পুত্রাজায়া ও সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশন এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় অংশ নেয়।


অভিযানের সময় ক্লাংয়ের জালান কেপায়াং এলাকার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন একটি পানের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন শাবু উদ্ধার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দোকানটিতে শুধু পানই বিক্রি হতো না; নিয়মিত ক্রেতাদের কাছে গোপনে শাবুও সরবরাহ করা হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে পান বিক্রির আড়ালে এই মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া শাবু পানের সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করলে নেশার প্রভাব আরও তীব্র হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে অভিযান চলাকালে ওই দোকানটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী তদন্তের জন্য সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পানের ব্যবসার আড়ালে পরিচালিত সম্ভাব্য মাদক সরবরাহ চক্র এবং এর মূল হোতাদের শনাক্ত করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এ ছাড়া অভিযানের বিস্তারিত তথ্য আগামীকাল মঙ্গলবার পুত্রাজায়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করবেন মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।










