মালয়েশিয়ায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলামের (৩২) মরদেহ দীর্ঘ ১৮ দিন পর দেশে ফিরেছে। শনিবার (২ মে) সকালে তাঁর কফিন উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকাজুড়ে এক হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া নেমে আসে। তরতাজা এক যুবকের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। পরে সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। নিহত নজরুল ইসলাম ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছোট ছেলে।
পরিবার ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নজরুলের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৪টার দিকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে কর্তৃপক্ষ। এরপর শনিবার সকালে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। দাফনের আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মৃতদেহ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ নিহতের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার একটি অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নজরুল। সেখানে তিনি গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন পোষা প্রাণীর একটি সমন্বিত খামার পরিচালনা করতেন। পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক সাফল্যের কারণে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। এরই জেরে গত ১৪ এপ্রিল নজরুলকে কুপিয়ে হত্যার পর তাঁর মরদেহ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে আরও এক বাংলাদেশি নারী নিহত হন। নিহতের ভাই জহির উদ্দিন জানান, এর আগেও নজরুলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তিনি সবকিছু গুছিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মামার মৃত্যুতে শোকাহত ভাগনি সাদিয়া ইসলাম মীম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মামা বলেছিলেন সব বিক্রি করে দ্রুতই দেশে ফিরবেন। আমার মামা দেশে ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর দেহ নিথর।’
আরও
দেশের বাইরে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের সরাসরি কোনো আইনি এখতিয়ার না থাকলেও নিহতের পরিবার সরকারের কাছে ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটি বিদেশে সংঘটিত হওয়ায় আমাদের কাছে সরাসরি কোনো তথ্য বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নেই। তবে শুনেছি, নিহত নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন ছেলের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।’ এ ঘটনায় বিদেশের মাটিতে ঘটা অপরাধের বিচার নিশ্চিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দূতাবাস প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন নিহতের স্বজনেরা।










