মালয়েশিয়ায় ১৪ জন বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিকের বেতনের প্রায় ৪০ হাজার রিঙ্গিত আত্মসাৎ করে মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া নামের এক সুপারভাইজারের উধাও হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হাড়ভাঙা খাটুনির পর উপার্জিত অর্থ না পেয়ে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওই ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা। বাধ্য হয়ে তাঁরা গত ২১ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় প্রবাসী শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই ১৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কোম্পানির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১৫ দিন অন্তর সুপারভাইজারের মাধ্যমে তাঁদের পারিশ্রমিক পেয়ে আসছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ এপ্রিল অভিযুক্ত সুপারভাইজার জাবেদ মিয়ার নির্দেশনা মোতাবেক তাঁরই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মোহাম্মদ সহিবুর রহমানের ব্যাংক হিসাবে শ্রমিকদের বেতনের ওই ৪০ হাজার রিঙ্গিত জমা দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর তা শ্রমিকদের বুঝিয়ে না দিয়ে ওই দিনই নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান জাবেদ মিয়া।
হঠাৎ করে সুপারভাইজার উধাও হয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই দৈনন্দিন খরচ ও থাকা-খাওয়ার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কোনো উপায় না পেয়ে ২১ এপ্রিল তাঁরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন এবং পাওনা অর্থ উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যদিকে, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কোম্পানির পক্ষ থেকেও মালয়েশিয়ার স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও
বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ নিজ দেশের মানুষের মাধ্যমেই এভাবে আত্মসাৎ হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ প্রবাসীরা। তাঁরা দ্রুত বেতনের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত সুপারভাইজারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, প্রতারণা রোধ এবং বেতন পরিশোধ ব্যবস্থায় সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মতো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী সমাজ।












